
মোঃ নুর হোসাইন :
এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও নেতৃত্বশূন্য রয়েছে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদল। গতবছর ২১ আগস্ট রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় নোয়াখালী জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয় শীঘ্রই নিয়ম অনুযায়ী নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলোও আর আলোর মুখ দেখেনি নতুন কমিটি। দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ও চলছে স্থবিরতা। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিশ্বস্ত একটি সুত্র জানিয়েছে শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের বহুল কাঙ্ক্ষিত নতুন কমিটি। চলছে শেষ মুহুর্তের নেতৃত্ব যাচাই-বাছাইয়ের কাজ।
নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পদ প্রত্যাশী আছেন প্রায় ডজনখানেক। তবে জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিট ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে সভাপতি হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বারবার কারা নির্যাতিত, ত্যাগী ছাত্রনেতা এনবিএস রাসেল। এনবিএস রাসেল নোয়াখালী সরকারি কলেজের সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক ছিলেন এবং নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। ফ্যাসিবাদী আমলের দীর্ঘ সময় ধরে নোয়াখালীতে আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন। জেলার বিভিন্ন ইউনিটকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামিলীগ আমলে বারবার গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেছেন এবং সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের হামলায় কয়েকবার আহত হন। এছাড়াও আওয়ামিলীগের নির্যাতনে ভেঙে যাওয়া হাত প্লাস্টার করা অবস্থায়ও রাজপথে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে নেতাকর্মীদের ব্যাপক প্রশংসা ও আস্থা কুড়ান তিনি। ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় আওয়ামী লীগ-ছাত্র লীগের হামলা করে তখন তার মাথায় ৩৬ টা সেলাই এবং কোমরে ১৬ টা সেলাই দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে হরতাল পালনে সামনের সারিতে ভুমিকা রাখায় নোয়াখালী জেলা পুলিশের মোষ্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলো সে, সেসময় তাকে খুঁজতে বাসায় গিয়ে তাকে না পেয়ে তার মায়ের গায়ে হাত তোলে তৎকালীন এএসপি (সদর সার্কেলের)। তাছাড়া ৫ আগষ্টের পর থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোন কাজে নিজেকে না জড়ানোর ফল হিসেবে ও জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্বের গুরুভার উঠতে পারে তার কাঁধে।
এদিকে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে অর্ধ ডজন প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে সোনাপুর ডিগ্রি কলেজের সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সবশেষ কমিটির সহ-সভাপতি সজিব রহমান। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের যাঁতাকল থেকে গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতি করায় শিকার হয়েছেন হামলা মামলার। তবুও দমে যাননি সজিব রহমান, দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। ক্লিন ইমেজ এবং চৌকস ও মেধাবী ছাত্রনেতা হওয়ায় তৃণমূলের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় সে। ৫ আগষ্টের পর থেকে সংগঠন শক্তিশালী ও বিস্তৃতি করনে কাজ করেছেন। তাছাড়া এর আগে সোনাপুর কলেজের আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি থাকাকালীন শক্ত হাতে দায়িত্ব পালন করায় নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব তার হাতে ন্যাস্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদ প্রার্থী এনবিএস রাসেল বলেন, খুনি হাসিনা রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আমি সব সময় রাজপথে সোচ্চার চাচ্ছিলাম। দলের সকল কর্মসূচি আমি রাসেল জীবনের বাজি রেখে রাজপথে পালন করেছি। তারেক রহমানের নির্দেশে হরতাল অবরোধ থেকে শুরু করে এমন কোন কর্মসূচি নেই যেটা আমি পালন করিনি। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সবসময় আমি বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলাম। আমি দীর্ঘ কয়েকবার জেল খেটেছি। আমার নামে রয়েছে অসংখ্য রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা। আওয়ামী ছাত্রলীগ আমাকে অনেক নির্যাতন এবং হত্যার চেষ্টা করেছে। আমার শরীরে রয়েছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের দ্বারা অনেক কোপের আঘাতের চিহ্ন। জুলাই আগস্টের আন্দোলনের মতো গনঅভ্যুত্থানে আমি রেখেছি অগ্রণী ভূমিকা, ছাত্রলীগের মুখোমুখি সংঘর্ষ করেছি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। ৫ ই আগস্ট পরবর্তী সময় মুক্ত পরিবেশে শিক্ষার্থীবান্ধব অনেক ইতিবাচক কাজ করেছি। ইনশাল্লাহ আগামীতে করে যাবো। আমি এন বি এস রাসেল। আমার প্রথম পরিচয় আমি একজন নোয়াখালীর সরকারি কলেজে মাস্টার্স অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী। নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী। আমি সবার কাছে দোয়া প্রার্থী।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী সজিব রহমান বলেন, ছাত্রদল মানে দেশের ভবিষ্যৎ, গণতন্ত্রের প্রথম কণ্ঠস্বর। এই কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করে সংগঠনকে আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও আদর্শিকভাবে গড়ে তুলতে চাই। আমার লক্ষ্য হলো তৃণমূল কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করা, শিক্ষাবান্ধব ও গঠনমূলক ছাত্র রাজনীতি করা। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সাহসী নেতৃত্ব আমি বিশ্বাস করি, বিভাজন নয়—ঐক্যই হবে আমার শক্তি। দায়িত্ব পেলে সকল স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের এলাকা নোয়াখালী হওয়ায় এ জেলার কমিটি নিয়ে সবার আলাদা আগ্রহ রয়েছে। নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস রয়েছে জেলা কমিটি ঘিরে। জানা গেছে, সংগঠন শক্ত হাতে পরিচালনার সক্ষমতা, ক্লিন ইমেজ, কর্মী বান্ধব, তৃণমূলের চাহিদা এবং বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্বের বিবেচনায় পদ পাবেন যোগ্য প্রার্থীরা।
বহুল কাঙ্ক্ষিত এ কমিটিতে কারা আসছেন নেতৃত্বে সেটা দেখতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছুদিন। তবে তৃণমূলের প্রত্যাশা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির তার নিজ এলাকা নোয়াখালীর নেতৃত্বের ভার তুলে দেবেন ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের হাতে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এডভোকেট সালাহ উদ্দিন মাহমুদ মাসুম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অহিদ উদ্দিন মাহমুদ মুকুল
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : জান্নাতুল ফেরদৌস প্রিয়া