২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টি করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • আপডেট: ১২:১৫:১২ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ৮৩৩

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, পতিত স্বৈরাচারী শক্তির সমর্থক কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পোশাকশিল্পের মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে বোর্ড গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি এবং সরকারের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ কয়েক সপ্তাহ আগেই নেওয়া হয়েছিল। মালিকপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম দিয়েছিল। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নাম দিতে কয়েক দিন সময় লেগেছে। সর্বশেষ গত পরশু রাতে তারা প্রতিনিধির নাম দিয়েছে। শ্রমমন্ত্রী গতকাল যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মজুরি বোর্ড গঠন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি, বিগত কিছুদিন ধরে পতিত স্বৈরাচারী শক্তির সমর্থিত কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিক ভাইবোনদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। শ্রমিকদের জন্য গঠিত মজুরি বোর্ড গতকাল গঠন করা হয়েছে। হয়তো আজই বোর্ডের প্রথম সভা হতে পারে, অথবা খুব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তারা বসবেন। আলাপ-আলোচনা হবে এবং যথাসম্ভব দ্রুত শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে ঘোষণা করা হতে পারে।

মজুরি নির্ধারণের সময়সীমা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বর পর্যন্ত এমনিতেই সময়সীমা আছে, তিন বছর পূর্ণ হতে। আশা করি, তারা সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নিম্নতম মজুরি ঠিক করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়, তাদের জীবনমানের উন্নতি হয়। সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সহানুভূতির সঙ্গে মজুরি নির্ধারণ করা হবে। উভয়পক্ষের আলোচনা এবং বাস্তবতার নিরিখে এটি নির্ধারিত হবে।

শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সহিংসতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে অসন্তোষের কিছু নেই। বিগত কয়েক দিন ধরে যেসব সহিংস ঘটনা ঘটেছে এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে, এর পেছনে যারা ইন্ধন দিচ্ছে, তারা চিহ্নিত হয়েছে। দুঃখজনক হলো, কিছু শিল্পমালিকও এর সঙ্গে জড়িত আছেন। কিছু শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে যারা কাজ করছেন, তারা শ্রমিকদের কল্যাণ চান কি না, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ। এসব লোকজন অস্থিরতা ও সহিংসতা সৃষ্টি করে রাস্তায় আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পাঁয়তারা করছেন, যা কোনোভাবেই শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলে দিতে চাই, যারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত, আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকালই এ রকম কিছু ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। অডিও, ভিডিও এবং সহিংস ঘটনার সচিত্র ক্লিপ রয়েছে, আপনাদের কাছেও আছে।

জাতীয় স্বার্থ অর্জনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন: রাষ্ট্রপতি

শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টি করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট: ১২:১৫:১২ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, পতিত স্বৈরাচারী শক্তির সমর্থক কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পোশাকশিল্পের মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে বোর্ড গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি এবং সরকারের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ কয়েক সপ্তাহ আগেই নেওয়া হয়েছিল। মালিকপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম দিয়েছিল। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নাম দিতে কয়েক দিন সময় লেগেছে। সর্বশেষ গত পরশু রাতে তারা প্রতিনিধির নাম দিয়েছে। শ্রমমন্ত্রী গতকাল যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মজুরি বোর্ড গঠন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি, বিগত কিছুদিন ধরে পতিত স্বৈরাচারী শক্তির সমর্থিত কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিক ভাইবোনদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। শ্রমিকদের জন্য গঠিত মজুরি বোর্ড গতকাল গঠন করা হয়েছে। হয়তো আজই বোর্ডের প্রথম সভা হতে পারে, অথবা খুব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তারা বসবেন। আলাপ-আলোচনা হবে এবং যথাসম্ভব দ্রুত শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে ঘোষণা করা হতে পারে।

মজুরি নির্ধারণের সময়সীমা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বর পর্যন্ত এমনিতেই সময়সীমা আছে, তিন বছর পূর্ণ হতে। আশা করি, তারা সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নিম্নতম মজুরি ঠিক করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়, তাদের জীবনমানের উন্নতি হয়। সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সহানুভূতির সঙ্গে মজুরি নির্ধারণ করা হবে। উভয়পক্ষের আলোচনা এবং বাস্তবতার নিরিখে এটি নির্ধারিত হবে।

শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সহিংসতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে অসন্তোষের কিছু নেই। বিগত কয়েক দিন ধরে যেসব সহিংস ঘটনা ঘটেছে এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে, এর পেছনে যারা ইন্ধন দিচ্ছে, তারা চিহ্নিত হয়েছে। দুঃখজনক হলো, কিছু শিল্পমালিকও এর সঙ্গে জড়িত আছেন। কিছু শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে যারা কাজ করছেন, তারা শ্রমিকদের কল্যাণ চান কি না, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ। এসব লোকজন অস্থিরতা ও সহিংসতা সৃষ্টি করে রাস্তায় আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পাঁয়তারা করছেন, যা কোনোভাবেই শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলে দিতে চাই, যারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত, আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকালই এ রকম কিছু ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। অডিও, ভিডিও এবং সহিংস ঘটনার সচিত্র ক্লিপ রয়েছে, আপনাদের কাছেও আছে।