২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্যবহার অনুপযোগী হিসেবে ৬ মাসের বেশি বন্ধ থাকার পর কোন সংস্কার ছাড়াই ফের চালু হলো কলেজ অডিটোরিয়াম

  • আপডেট: ০৯:৪০:৫৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮৮৫

মোঃ নুর হোসাইন :
পরিত্যক্ত ঘোষণা করার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল অডিটোরিয়ামে। কোন সংস্কার ছাড়াই ৬ মাস পর ফের সচল করা হলো নোয়াখালী কলেজের একমাত্র অডিটোরিয়ামটি।

নোয়াখালী সরকারি কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামগ্রিক অগ্রগতির পথিকৃৎ ছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম আব্দুল জলিল। মহান এই শিক্ষকের স্মরণে ২০০৪ সালে ক্যাম্পাসে নির্মিত একমাত্র অডিটোরিয়ামটির নামে নামকরণ করা হয়। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন দিবস ও উৎসব, কলেজের বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও অনুষ্ঠান এবং শিক্ষার্থীদের সকল ধরনের প্রশিক্ষণ, সিম্পোজিয়াম-সেমিনার মতবিনিময়, নবীন বরণ, বিদায়ী অনুষ্ঠানের একমাত্র স্থান হলো এই অডিটোরিয়াম। এছাড়া আর কোনো কনফারেন্স রুম, অডিটোরিয়াম বা মিলনায়তন নেই পুরো কলেজে। গত প্রায় ৬ মাস আগে ব্যবহার অনুপযোগী ও সংস্কারের আশ্বাসে অডিটোরিয়ামটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় এবং আর কোন প্রোগ্রামের অনুমতি দেওয়া হয়নি৷ শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে কলেজ মাঠে ডেকোরেশন প্যান্ডেল করে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন সহ বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারের হল ভাড়া করে তাদের নবীন বরণ, বিদায়ী অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন প্রোগ্রামের আয়োজন করে। তবে গত ৬ মাস অডিটোরিয়ামটি অব্যবহৃত থাকলেও সোমবার (১০ নভেম্বর) গনিত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের বিদায়ী সংবর্ধনা ও ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয় কলেজ প্রশাসন। জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে কলেজ প্রশাসন অডিটোরিয়াম ব্যবহারের অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে। আশায় বুক বেঁধে থাকা শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন, নোয়াখালী সরকারি কলেজের একমাত্র অডিটোরিয়ামটিতে বহুল প্রতীক্ষিত সংস্কার কি তবে আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

সরেজমিনে নোয়াখালী সরকারি কলেজের নতুন ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই হাতের বাম পাশে অধ্যক্ষ আবদুল জলিল অডিটোরিয়ামের অবস্থান। ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, অডিটোরিয়ামের প্রধান ফটকের কাঁচের তৈরি দরজার দুটো কাঁচের একটিও নেই। অডিটোরিয়ামের বাইরের অংশে একপাশে ভাঙা আসবাবপত্র ও অন্যপাশে ময়লা-আবর্জনা স্তুপ হয়ে পড়ে আছে। ভেতরের চেয়ারগুলোর অবস্থাও বেশ নড়বড়ে। উপরে কিছু পুরাতন বৈদ্যুতিক পাখা থাকলেও নেই কোনো আধুনিক শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিকরণ ব্যবস্থা। ধুলোবালি জমা মূল মঞ্চের একপাশও আংশিক ভেঙে গেছে। সাউন্ডপ্রুফ দেয়ালের অধিকাংশ স্থানে ঘুণে ধরে নষ্ট হয়ে পড়েছে। নেই আধুনিক কোনো সাউন্ড সিস্টেম। বৃষ্টি হলে উপর থেকে টিনের ছাল দিয়ে পানি পড়ে আবার একটু বেশি বৃষ্টিপাত হলে ফ্লোর পানিতে ডুবে যায়।

বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলে উন্নয়ন আর সংস্কারের নামে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ন্যায় নোয়াখালী সরকারি কলেজেও চলেছে লুটপাট। অভিযোগ আছে অডিটোরিয়াম সংস্কারের জন্য ২/৩ বার অর্থ বরাদ্দ হলেও তৎকালীন কলেজ প্রশাসন নামমাত্র কাজ দেখিয়ে সে অর্থ লুটপাট করেছেন। কলেজের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে তাদের তেমন কোন দায়িত্ববোধ ও তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। তবে ৫ আগষ্টের ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের পরও অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে বড় ধরনের সংস্কার এবং উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগায় শিক্ষার্থীরা হতাশ হচ্ছেন। অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল অডিটোরিয়াম সহ কলেজের সার্বিক উন্নয়নে কলেজ প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তারা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম সানা উল্লাহ বলেন, কলেজের অডিটোরিয়াম এখন মোটামুটি ব্যবহারের উপযোগী আছে। শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আরো কেউ অনুষ্ঠান করতে চাইলেও বিবেচনা করা হবে৷ অডিটোরিয়াম সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কলেজের একমাত্র এই অডিটোরিয়ামটি সংস্কারের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। সংস্কারের বরাদ্দ হয়েছে কিনা, বা বরাদ্দ হয়ে থাকলে এখন কোন অবস্থায় আছে তা নির্দিষ্ট ভাবে আমার জানা নেই। বিস্তারিত জেনে তারপরে জানাতে পারবো।

সর্বাধিক পঠিত

‘ঈদ যাত্রায় দু-একটি পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম নিচ্ছে’

ব্যবহার অনুপযোগী হিসেবে ৬ মাসের বেশি বন্ধ থাকার পর কোন সংস্কার ছাড়াই ফের চালু হলো কলেজ অডিটোরিয়াম

আপডেট: ০৯:৪০:৫৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

মোঃ নুর হোসাইন :
পরিত্যক্ত ঘোষণা করার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল অডিটোরিয়ামে। কোন সংস্কার ছাড়াই ৬ মাস পর ফের সচল করা হলো নোয়াখালী কলেজের একমাত্র অডিটোরিয়ামটি।

নোয়াখালী সরকারি কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামগ্রিক অগ্রগতির পথিকৃৎ ছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম আব্দুল জলিল। মহান এই শিক্ষকের স্মরণে ২০০৪ সালে ক্যাম্পাসে নির্মিত একমাত্র অডিটোরিয়ামটির নামে নামকরণ করা হয়। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন দিবস ও উৎসব, কলেজের বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও অনুষ্ঠান এবং শিক্ষার্থীদের সকল ধরনের প্রশিক্ষণ, সিম্পোজিয়াম-সেমিনার মতবিনিময়, নবীন বরণ, বিদায়ী অনুষ্ঠানের একমাত্র স্থান হলো এই অডিটোরিয়াম। এছাড়া আর কোনো কনফারেন্স রুম, অডিটোরিয়াম বা মিলনায়তন নেই পুরো কলেজে। গত প্রায় ৬ মাস আগে ব্যবহার অনুপযোগী ও সংস্কারের আশ্বাসে অডিটোরিয়ামটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় এবং আর কোন প্রোগ্রামের অনুমতি দেওয়া হয়নি৷ শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে কলেজ মাঠে ডেকোরেশন প্যান্ডেল করে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন সহ বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারের হল ভাড়া করে তাদের নবীন বরণ, বিদায়ী অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন প্রোগ্রামের আয়োজন করে। তবে গত ৬ মাস অডিটোরিয়ামটি অব্যবহৃত থাকলেও সোমবার (১০ নভেম্বর) গনিত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের বিদায়ী সংবর্ধনা ও ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয় কলেজ প্রশাসন। জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে কলেজ প্রশাসন অডিটোরিয়াম ব্যবহারের অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে। আশায় বুক বেঁধে থাকা শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন, নোয়াখালী সরকারি কলেজের একমাত্র অডিটোরিয়ামটিতে বহুল প্রতীক্ষিত সংস্কার কি তবে আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

সরেজমিনে নোয়াখালী সরকারি কলেজের নতুন ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই হাতের বাম পাশে অধ্যক্ষ আবদুল জলিল অডিটোরিয়ামের অবস্থান। ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, অডিটোরিয়ামের প্রধান ফটকের কাঁচের তৈরি দরজার দুটো কাঁচের একটিও নেই। অডিটোরিয়ামের বাইরের অংশে একপাশে ভাঙা আসবাবপত্র ও অন্যপাশে ময়লা-আবর্জনা স্তুপ হয়ে পড়ে আছে। ভেতরের চেয়ারগুলোর অবস্থাও বেশ নড়বড়ে। উপরে কিছু পুরাতন বৈদ্যুতিক পাখা থাকলেও নেই কোনো আধুনিক শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিকরণ ব্যবস্থা। ধুলোবালি জমা মূল মঞ্চের একপাশও আংশিক ভেঙে গেছে। সাউন্ডপ্রুফ দেয়ালের অধিকাংশ স্থানে ঘুণে ধরে নষ্ট হয়ে পড়েছে। নেই আধুনিক কোনো সাউন্ড সিস্টেম। বৃষ্টি হলে উপর থেকে টিনের ছাল দিয়ে পানি পড়ে আবার একটু বেশি বৃষ্টিপাত হলে ফ্লোর পানিতে ডুবে যায়।

বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলে উন্নয়ন আর সংস্কারের নামে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ন্যায় নোয়াখালী সরকারি কলেজেও চলেছে লুটপাট। অভিযোগ আছে অডিটোরিয়াম সংস্কারের জন্য ২/৩ বার অর্থ বরাদ্দ হলেও তৎকালীন কলেজ প্রশাসন নামমাত্র কাজ দেখিয়ে সে অর্থ লুটপাট করেছেন। কলেজের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে তাদের তেমন কোন দায়িত্ববোধ ও তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। তবে ৫ আগষ্টের ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের পরও অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে বড় ধরনের সংস্কার এবং উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগায় শিক্ষার্থীরা হতাশ হচ্ছেন। অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল অডিটোরিয়াম সহ কলেজের সার্বিক উন্নয়নে কলেজ প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তারা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম সানা উল্লাহ বলেন, কলেজের অডিটোরিয়াম এখন মোটামুটি ব্যবহারের উপযোগী আছে। শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আরো কেউ অনুষ্ঠান করতে চাইলেও বিবেচনা করা হবে৷ অডিটোরিয়াম সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কলেজের একমাত্র এই অডিটোরিয়ামটি সংস্কারের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। সংস্কারের বরাদ্দ হয়েছে কিনা, বা বরাদ্দ হয়ে থাকলে এখন কোন অবস্থায় আছে তা নির্দিষ্ট ভাবে আমার জানা নেই। বিস্তারিত জেনে তারপরে জানাতে পারবো।