
স্টাফ রিপোর্টার:
নোয়াখালী সদর উপজেলার ৯নং কালাদরাপ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নবগঠিত কমিটিতে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে।নবগঠিত কমিটির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ২১ জনই পদত্যাগ করেছেন ইতিমধ্যে। সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আহ্বায়কের বিরুদ্ধে আওয়ামী সখ্যতার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন তারা। উক্ত কমিটি বাতিলের দাবিতে আজ সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে ইউনিয়নের রব বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে ৯নং কালাদরাপ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিল থেকে তারা ৯নং কালাদরাপ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নবগঠিত কমিটি আওয়ামী লীগ কর্তৃক সুপারিশকৃত ও কালো টাকার প্রভাবিত এবং ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে উক্ত কমিটি বাতিলের দাবি জানান।
পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলটির নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব মো. ইয়াসিন আরাফাত। এর আগে, শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নোয়াখালী সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক, যুগ্ন আহবায়ক ও সদস্য সচিব স্বাক্ষরিত কালাদরাপ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।
কমিটি গঠনের পর থেকে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা অভিযোগ করেন, পরীক্ষিত ত্যাগী নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে। সুসময়ের সুবিধাবাদীদের দিয়ে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পদত্যাগ করার কারণ হিসেবে একাধিক নেতাকর্মীরা জানায়, বর্তমান আহ্বায়ক ইমরান হোসেন সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দলের দুঃসময়ে কোন তৎপর ভূমিকা রাখেননি এবং আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের সাথে সখ্যতা রেখে সব সময় সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন। এমনকি এবারের স্বেচ্ছাসেবক দলের অত্র ইউনিয়ন কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আমিন মাঝির পৃষ্ঠপোষকতায় ও অনৈতিক লেনদেনের তদবিরে সাহাব উদ্দিনকে আহবায়ক করা হয়েছে। এবং যে মাহমুদুল হাসান কখনো পদের জন্য প্রার্থী ছিল না, কাউন্সিলের এক সপ্তাহ আগে প্রার্থী বানিয়ে তাকে সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক বানানো হয়েছে। এখানে অনৈতিক লেনদেনের প্রভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে কমিটিতে কোন ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। এই কমিটি গ্রহণযোগ্য কমিটি হতে পারে না। যে কারণে এখানে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে।
পদত্যাগকৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. ইয়াসিন আরাফাত বলেন, আমি টানা তিনবার এই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। এবার সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছি। কিন্তু আমার ত্যাগের মূল্যায়ন না করে, বিভিন্ন চুরি ডাকাতির মামলার আসামি ও সুসময়ের কুশীলবদের আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। যাদেরকে নেতাকর্মীরা গ্রহণ করেনি বলেই সকলে পদত্যাগ করেছেন। দীর্ঘ নয় বছর পর দেশে এসে কমিটি ঘোষণার মাত্র ০৭ দিন আগে প্রার্থী হয়ে বিদেশ ফেরত একজনকে করা হয়েছে যুগ্ম আহ্বায়ক। এছাড়াও মাত্র ০৭ দিন আগে প্রার্থী হয়ে হাসান মাহমুদ সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছে। এতে স্পষ্ট যে এই কমিটিতে ত্যাগী ও যোগ্যরা মূল্যায়ন পায়নি।















