১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদরাসার শিক্ষকের উপর কিশোর গ্যাংয়ের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

স্টাফ রিপোর্টার-
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের জামেয়া শরাফতিয়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার শ্রেণি কক্ষে ঢুকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ইভটিজিং ও এর প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষককে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দিয়েছিলো কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এর প্রতিবাদে এবং কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিচারের দাবিতে কোম্পানীগঞ্জে আজ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার (১১ মে) সকাল ১০ ঘটিকার সময় জামেয়া শরাফতিয়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার সামনে মাদাসার শিক্ষক, কর্মচারী, ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসী এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধনে বক্তারা মাদরাসার শিক্ষককে আহত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এবং অতিসত্বর সন্ত্রাসী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উল্লখ্য, গত রোববার (৫ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের জামেয়া শরাফতিয়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্রেণি কক্ষে ইভটিজিং করে একই এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য রাজু(২৪) ও আবু নোমান (২৫)। এর জের ধরে একই দিন বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মুছাপুর মদিনা বাজারের পূর্ব পাশে কিশোর গ্যাং সদস্যরা মাদরাসার শিক্ষক মোঃ হাসানের উপর হামলা করে তার দুই হাত ভেঙে দেয়।

জামেয়া শরাফতিয়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার আরবি প্রভাষক মো.শহীদ উল্যাহ অভিযোগ করে বলেন, বেলা পৌনে ১১টার দিকে বহিরাগত রাজু জামেয়া শরাফতিয়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার ক্যাম্পাসে আসে। এরপর সে মাদরাসার ছাত্র নোমানের সহযোগিতায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির কক্ষে ঢুকে এক ছাত্রীকে ইভটিজিং করে। ওই সময় ছাত্রী তার ভয়ে শ্রেনি কক্ষে থাকা বেঞ্চের নিচে লুকিয়ে যায়। এরপর ইভটিজিংয়ের শিকার ছাত্রীর অন্য সহপাঠীরা বাধা দিলেও রাজু তাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। খবর পেয়ে মাদরাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষক মো.সোহেল এগিয়ে আসলে ইভটিজার রাজু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা মাদরাসার ভিতরে ওই শিক্ষককে মারধর করে। তাৎক্ষণিক একই মাদরাসার শিক্ষক হাসান এগিয়ে এসে সহকর্মী শিক্ষকের ওপর হামলা ও ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করলে তার সাথেও ইভটিজারদের বিরোধ দেখা দেয়। ওই বিরোধের জের ধরে বিকেল ৫টার দিকে মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য রাজু ও নোমানের নেতৃত্বে ৭/৮জন কিশোর গ্যাং সদস্য তার গতিরোধ করে। পরে তারা শিক্ষক হাসানের ওপর হামলা চালায়। তখন হামলাকারীরা তাকে রাস্তায় দৌড়াতে দৌড়াতে বেধড়ক পেটায়। এতে তার দুই হাত ভেঙ্গে যায়।

হামলার শিকার শিক্ষকের শাশুড়ি বিবি খাদিজা ও শ্বশুর মো.সাহাব উদ্দিন বলেন, ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় কিশোর গ্যাং সদস্যরা এ হামলা চালায়। বর্তমানে হাসানকে জেলা শহর মাইজদীর জাপান বাংলাদেশ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জাপান বাংলাদেশ হাসপাতালের অর্থোপেডিক ডাক্তার আবদুর রহমান বলেন,তার একটি হাতে অপারেশন করে পাত বসানো হয়েছে। অন্য একটি হাতে প্লাস্টার করা হয়েছে। তার দুটি হাত ভেঙ্গে গেছে।

সর্বাধিক পঠিত

‘ঈদ যাত্রায় দু-একটি পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম নিচ্ছে’

মাদরাসার শিক্ষকের উপর কিশোর গ্যাংয়ের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

আপডেট: ০৪:৪৯:১৬ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১১ মে ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার-
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের জামেয়া শরাফতিয়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার শ্রেণি কক্ষে ঢুকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ইভটিজিং ও এর প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষককে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দিয়েছিলো কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এর প্রতিবাদে এবং কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিচারের দাবিতে কোম্পানীগঞ্জে আজ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার (১১ মে) সকাল ১০ ঘটিকার সময় জামেয়া শরাফতিয়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার সামনে মাদাসার শিক্ষক, কর্মচারী, ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসী এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধনে বক্তারা মাদরাসার শিক্ষককে আহত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এবং অতিসত্বর সন্ত্রাসী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উল্লখ্য, গত রোববার (৫ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের জামেয়া শরাফতিয়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্রেণি কক্ষে ইভটিজিং করে একই এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য রাজু(২৪) ও আবু নোমান (২৫)। এর জের ধরে একই দিন বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মুছাপুর মদিনা বাজারের পূর্ব পাশে কিশোর গ্যাং সদস্যরা মাদরাসার শিক্ষক মোঃ হাসানের উপর হামলা করে তার দুই হাত ভেঙে দেয়।

জামেয়া শরাফতিয়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার আরবি প্রভাষক মো.শহীদ উল্যাহ অভিযোগ করে বলেন, বেলা পৌনে ১১টার দিকে বহিরাগত রাজু জামেয়া শরাফতিয়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার ক্যাম্পাসে আসে। এরপর সে মাদরাসার ছাত্র নোমানের সহযোগিতায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির কক্ষে ঢুকে এক ছাত্রীকে ইভটিজিং করে। ওই সময় ছাত্রী তার ভয়ে শ্রেনি কক্ষে থাকা বেঞ্চের নিচে লুকিয়ে যায়। এরপর ইভটিজিংয়ের শিকার ছাত্রীর অন্য সহপাঠীরা বাধা দিলেও রাজু তাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। খবর পেয়ে মাদরাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষক মো.সোহেল এগিয়ে আসলে ইভটিজার রাজু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা মাদরাসার ভিতরে ওই শিক্ষককে মারধর করে। তাৎক্ষণিক একই মাদরাসার শিক্ষক হাসান এগিয়ে এসে সহকর্মী শিক্ষকের ওপর হামলা ও ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করলে তার সাথেও ইভটিজারদের বিরোধ দেখা দেয়। ওই বিরোধের জের ধরে বিকেল ৫টার দিকে মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য রাজু ও নোমানের নেতৃত্বে ৭/৮জন কিশোর গ্যাং সদস্য তার গতিরোধ করে। পরে তারা শিক্ষক হাসানের ওপর হামলা চালায়। তখন হামলাকারীরা তাকে রাস্তায় দৌড়াতে দৌড়াতে বেধড়ক পেটায়। এতে তার দুই হাত ভেঙ্গে যায়।

হামলার শিকার শিক্ষকের শাশুড়ি বিবি খাদিজা ও শ্বশুর মো.সাহাব উদ্দিন বলেন, ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় কিশোর গ্যাং সদস্যরা এ হামলা চালায়। বর্তমানে হাসানকে জেলা শহর মাইজদীর জাপান বাংলাদেশ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জাপান বাংলাদেশ হাসপাতালের অর্থোপেডিক ডাক্তার আবদুর রহমান বলেন,তার একটি হাতে অপারেশন করে পাত বসানো হয়েছে। অন্য একটি হাতে প্লাস্টার করা হয়েছে। তার দুটি হাত ভেঙ্গে গেছে।