৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে যা ভাবছে নোসকের নারী শিক্ষার্থীরা

  • আপডেট: ১০:২৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫
  • ৮৭৫

সুমাইয়া আক্তার (নোসক শিক্ষার্থী):
সভ্যতার অভাবনীয় সাফল্যের পিছনে নারী ও পুরুষের সমান অবদান অনস্বীকার্য। নারীকে বাদ দিয়ে কোনো দেশের সাফল্য কল্পনাও করা যায়না। বিশ্ব নারী দিবসের শুভেচ্ছা সকল নারীকে।আন্তর্জাতিক নারী দিবস ( পূর্বনাম আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস)। নারীশক্তির বিকাশের জন্য প্রতিবছর ৮ই মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে থাকে “আন্তর্জাতিক নারী দিবস”।১৯১৪ সাল থেকে এই দিবস পালিত হয়ে থাকলেও ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চ কে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। নারী দিবস’টি পালন করা হয় সারা বিশ্বে নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক অর্জনকে সম্মান জানাতে। নারী সারা বিশ্বের জনসংখ্যার অর্ধেক,তাই নারী পুরুষ বৈষম্য না করে সমান তালে এগিয়ে গেলে পৃথিবী আগাবে দ্বিগুন গতিতে। শতবর্ষ কিংবা তারও আগে থেকে নারী দিবস পালন করা হলেও সমাজে আজও নারীরা তাদের সমান অধিকার পায়না, তাদের প্রতিভার প্রমাণ রাখতে লড়াই করতে হয়,সবার বিরুদ্ধে।তবে নারীরা এখন অনেক সচেতন। তারা তাদের অধিকার বুঝতে শিখেছে, লড়াই করার সাহসও তাদের প্রবল। সকল ক্ষেত্রে তাদের পদচারণা এটাই প্রমাণ করে, নারীর কাজ কেবল ঘর সামলানো নয়, নারীদেরও আছে প্রখর প্রতিভা। তাদের অবদানের স্বীকৃতি জানাতেই পালিত হয় এই দিন টি।

বর্তমান সময়ে নারীদের ব্যপক উন্নতি ঘটেছে। তারপরেও কি তারা ন্যায্য অধিকার পাচ্ছে? দেশের ক্রান্তিলগ্নে নারীদের সাহসী ভূমিকা উল্লেখযোগ্য, ১৯৭১ থেকে শুরু করে ২০২৪শে এসে নারীরা দেখিয়েছেন তারা মায়ের জাতি, সংগ্রামী জাতি। ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিলো বলেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে। দেশের ক্রান্তিলগ্নে যেমন নারীরা ছিলো তেমনি দেশ গঠনেও নারীরা অংশগ্রহণ করবে। নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন হবে,নারীরা হবে উদ্যমী এবং সাহসী।

নারী দিবস উপলক্ষে নারীদের অধিকার, সমতা, নিরাপত্তা এবং অবস্থান নিয়ে কী ভাবছেন নোয়াখালী সরকারি কলেজের (নোসক) নারী শিক্ষার্থীরা। নারীদের নিয়ে তাদের ভাবনা এবং প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন নোসক শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার।

নোয়াখালী সরকারি কলেজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ (২০১৯-২০২০) সেশনের শিক্ষার্থী তারফিনা শাহনাজ রজব নারীদের সংগ্রামী ইতিহাস এবং দেশের প্রতি আত্মত্যাগ, সাহসী ভুমিকা তুলে ধরে বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য দিন তবে এই সময়ে এই দিবস উদযাপনের মত মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা আমাদের কারোরই আছে বলে মনে হয়না।দেশের ক্রান্তিলগ্নে স্বাধীনতা রক্ষার এক গোলকধাঁধার মধ্যে আষ্টেপৃষ্টে আছি সবাই। বিশ্ববাসী দেখেছে আমাদের নারীসমাজ কি করতে পারে।আমরা ৫২ কিংবা ৭১ না দেখলেও আমরা চব্বিশের অভ্যুত্থানে যে ভূমিকা রেখেছি তাতে আন্দোলন জোরালো হয়েছিলো।মেয়েরা তাদের ভাইদের আত্নরক্ষায় বুক পেতে দিয়েছিলাম। ফ্যাসিস্ট এর দোসররা মেয়েদেরকে পিছনে ফেলে আমাদের ভাইদের চিনিয়ে নেওয়ার দু:সাহস করতে পারেনি। অভ্যুত্থানের সময় আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের ভেদাভেদ দেখেনি কেউ। কিন্তু এর পরবর্তী সময়ে একটা অংশ মেয়েদের অস্বীকার করার তীব্র চেষ্টায় লিপ্ত ছিলো।একেকজনের অবদানকে খাটো করে দেখা সহ সকল ক্রেডিট এক তরফা নিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা তারা করেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু মেয়েরা সবসময় আন্ডাররেটেড থেকেও নিজেদের দায়িত্বের জায়গায় সচেতন ছিলো। আন্দোলনের পরেও নোয়াখালী তে যে ভয়াবহ বন্যা আমরা অতিক্রম করেছি তাতে নোয়াখালীর নারী নেতৃত্বের অবদান স্পষ্ট। তিনি আরো বলেন, চারদিকে এত ধর্ষণ, অবিচার সেইখানে আমরা একতাবদ্ধ।সাম্প্রতিক সময়ে যে ঘটনা ঢাবিতে ঘটেছে তাতে রাষ্ট্র যে মেয়েদের নিরাপত্তার ব্যাপারে কতটা উদাসীন তা স্পষ্ট। বিশেষ করে হেনস্তাকারী অর্নবের গলায় ঐ ফুলের মালা আর হাতে প্রবিত্র আল্লাহর কালাম এইটা সমগ্র বিবেকমান মানুষের গালে চপোটাঘাত ছাড়া কিছুই নয়। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন করেছি তবে যাদেরকে বৈষম্য দূর করার দায়িত্ব দিলাম তারাই যখন বৈষম্যের নজির স্থাপন করে তখন তাদের থেকে পাওয়া বৈষম্যের কথা আমরা কাকে বলবো?আমরা তিন বছরের চকলেট কিনতে যাওয়া শিশুটির নিরাপত্তা দিতে পারেনি,গতকাল মাগুরার ধর্ষিত বাচ্ছাটির মৃত্যুর লড়াইয়ের সাক্ষী হতে হলো বাস্তবিক এই দিবস এই মুহুর্তে উদযাপনের অবস্থায় নেই।তবুও এইটুকু বলবো প্রিয় বোনেরা সবাই একতাবদ্ধ থাকুন।হিজাবের অধিকার যেমন চাই তেমন রাস্তায় নির্বিঘ্নে চলাফেরার অধিকার ও চাই।আমাদের একতাবদ্ধ হতে হবে একটা কালো অংশের বিপক্ষে যারা অন্ধকারে ডুবে আছে।

নোয়াখালী সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগ ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসমিন নাহের নুহা বলেন, নারী হলো অন্যতম পরাশক্তি। সুস্থ নিরপেক্ষ সমাজ বিনির্মানে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমান তালে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আক্ষেপ নিয়ে জানান , নারী দিবস শুধু একদিন পালন করা উচিত না। নারীদের জন্য হোক প্রতিদিন। যেহেতু নারী দিবস বলে ওই একদিনই নারী দের সম্মান দেওয়া হয় তাহলে আমার মতে এই নারী দিবস প্রতিদিন হওয়া উচিত। যেন আমরা নারীরা একটু স্বাধীনভাবে চলতে পারি। আবার এই স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়। অন্তত ঘর থেকে এই ভেবে বের হইতে পারি যে আমি নিরাপদ আছি আমার পরিবারও যেন এই ভেবে আমাকে বাহিরে বের হতে দিতে পারে যে আমার মেয়ে যেখানেই যাচ্ছেনা কেন সে নিরাপদ আছে। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীরা যেনো দিন দিন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নারী দিবসে আমার একটাই চাওয়া সমাজে, রাষ্ট্রে নারীদের সুস্পষ্ট অবস্থান সমতার হোক, ঘরে এবং বাহিরে নিজেদের নিরাপদ মনে করুক।

নোয়াখালী সরকারি কলেজের বিবিএস ( ২০২১-২০২২) সেশনের শিক্ষার্থী সুমাইয়া বিনতে জিহাদী তার ভাবনা এবং প্রত্যাশা কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করেন, “জীবন যদি রংধনু হয়, তবে নারী হলো তার রঙের বাহার জীবনে যদি নেমে আসে আধার, নারী তুমি হয়ে ওঠো তার আশার আলো ” বর্তমান সময়ে নারীরা শিক্ষা ক্ষেত্র থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত পুরুষদের সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশ বিনির্মানে পুরুষদের সাথে সমান তালে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু তাও নারীরা নির্যাতন, বঞ্চনার স্বীকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ইসলাম এবং দেশের নীতিতে নারীদের সম্মানিত করা হয় কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র , আমরা নারীরা ঘর থেকে বের হয় ভয় নিয়ে। নারী পাচার, নারীকে ধর্ষণ এসব যেনো বেড়েই চলছে। নারীদের ধর্মীয়, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। নারী হয়ে যাচ্ছে লাঞ্চিত, অবহেলিত। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করছে কথা বলছে যা নারীদের জন্য একটা সম্ভাবনাময় দেশ গঠনে সাহায্য করবে বলে আমি মনে করি। এই সময় সুমাইয়া কাজী নজরুল ইসলামের ছড়া রচিত পঙক্তির মাধ্যমে নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, “বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর,অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।” ৮ ই মার্চ নারী দিবসের শুভেচ্ছা সকল নারীকে।

নোয়াখালী সরকারি কলেজ বি এস এস সি (২০২২-২০২৩) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার কাজী নজরুল ইসলামের একটি উক্তি দিয়ে নারী দিবসে তার ভাবনার এবং প্রত্যাশা তুলে ধরেন, ❝কোনো কালে একা হয়নিকো জয়ী পুরুষের তরবারি প্রেরনা দিয়েছে শক্তি দিয়াছে বিজয়ালক্ষী নারী❞ নারীরা মমতাময়ী আবার সেই নারী রুদ্ররূপ ধারণ করতে পারে যা কাজী নজরুল ইসলামের উক্তিতে প্রকাশ পায়। আমরা জেনারেশন জি অর্থাৎ জেন-জি তা ২০২৪ সালে স্বচক্ষে দেখেছি। একজন নারী কিভাবে ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে লড়াই করে। একজন নারী তার ভাইদের কাধে কাধ মিলিয়ে ফ্যাসিস্টের পতন ঘটিয়েছে। ভাইদের, সন্তানদের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো আমাদের সংগ্রামী নারীরা তবুও পৃথিবীর প্রতিটি দেশে প্রতিটি সমাজে নারী হচ্ছে নির্যাতিত, নিপীড়িত। তবে আনন্দের বিষয় হচ্ছে বর্তমানে নারীরা তাদের অধিকার এবং সমতা রক্ষার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতন। বর্তমানে নারীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে জানে। তিনি আরো বলেন, পৃথিবীতে জনসংখ্যা দিক দিয়ে প্রায় অধিকাংশ নারী। পুরুষ যেমন বাহিরে কাজ করে নারীরা বর্তমানে ঘরে বসে নেই। তারাও জীবিকা নির্বাহের জন্য পুরুষদের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। ৮ই মার্চ কে আন্তর্জাতিক নারী দিসব হিসেবে স্বীকৃতি দান করে নারী সমাজের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা তথা নারী সমাজের সম্প্রীতি সুদৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে জাতিসংঘের সহযোগিতার প্রতি বছর সারা বিশ্বে এ দিবস পালিত হয়ে থাকে। নারী দিবসে নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী বেগম রোকেয়ার কথা না বললেই নয়। তিনি আমাদের সমাজে নারী শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি নিরলস কাজ করে গেছেন। আজো আমাদের কাছে তিনি অনুপ্রেরণা।

সর্বাধিক পঠিত

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে যা ভাবছে নোসকের নারী শিক্ষার্থীরা

আপডেট: ১০:২৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫

সুমাইয়া আক্তার (নোসক শিক্ষার্থী):
সভ্যতার অভাবনীয় সাফল্যের পিছনে নারী ও পুরুষের সমান অবদান অনস্বীকার্য। নারীকে বাদ দিয়ে কোনো দেশের সাফল্য কল্পনাও করা যায়না। বিশ্ব নারী দিবসের শুভেচ্ছা সকল নারীকে।আন্তর্জাতিক নারী দিবস ( পূর্বনাম আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস)। নারীশক্তির বিকাশের জন্য প্রতিবছর ৮ই মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে থাকে “আন্তর্জাতিক নারী দিবস”।১৯১৪ সাল থেকে এই দিবস পালিত হয়ে থাকলেও ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চ কে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। নারী দিবস’টি পালন করা হয় সারা বিশ্বে নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক অর্জনকে সম্মান জানাতে। নারী সারা বিশ্বের জনসংখ্যার অর্ধেক,তাই নারী পুরুষ বৈষম্য না করে সমান তালে এগিয়ে গেলে পৃথিবী আগাবে দ্বিগুন গতিতে। শতবর্ষ কিংবা তারও আগে থেকে নারী দিবস পালন করা হলেও সমাজে আজও নারীরা তাদের সমান অধিকার পায়না, তাদের প্রতিভার প্রমাণ রাখতে লড়াই করতে হয়,সবার বিরুদ্ধে।তবে নারীরা এখন অনেক সচেতন। তারা তাদের অধিকার বুঝতে শিখেছে, লড়াই করার সাহসও তাদের প্রবল। সকল ক্ষেত্রে তাদের পদচারণা এটাই প্রমাণ করে, নারীর কাজ কেবল ঘর সামলানো নয়, নারীদেরও আছে প্রখর প্রতিভা। তাদের অবদানের স্বীকৃতি জানাতেই পালিত হয় এই দিন টি।

বর্তমান সময়ে নারীদের ব্যপক উন্নতি ঘটেছে। তারপরেও কি তারা ন্যায্য অধিকার পাচ্ছে? দেশের ক্রান্তিলগ্নে নারীদের সাহসী ভূমিকা উল্লেখযোগ্য, ১৯৭১ থেকে শুরু করে ২০২৪শে এসে নারীরা দেখিয়েছেন তারা মায়ের জাতি, সংগ্রামী জাতি। ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিলো বলেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে। দেশের ক্রান্তিলগ্নে যেমন নারীরা ছিলো তেমনি দেশ গঠনেও নারীরা অংশগ্রহণ করবে। নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন হবে,নারীরা হবে উদ্যমী এবং সাহসী।

নারী দিবস উপলক্ষে নারীদের অধিকার, সমতা, নিরাপত্তা এবং অবস্থান নিয়ে কী ভাবছেন নোয়াখালী সরকারি কলেজের (নোসক) নারী শিক্ষার্থীরা। নারীদের নিয়ে তাদের ভাবনা এবং প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন নোসক শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার।

নোয়াখালী সরকারি কলেজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ (২০১৯-২০২০) সেশনের শিক্ষার্থী তারফিনা শাহনাজ রজব নারীদের সংগ্রামী ইতিহাস এবং দেশের প্রতি আত্মত্যাগ, সাহসী ভুমিকা তুলে ধরে বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য দিন তবে এই সময়ে এই দিবস উদযাপনের মত মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা আমাদের কারোরই আছে বলে মনে হয়না।দেশের ক্রান্তিলগ্নে স্বাধীনতা রক্ষার এক গোলকধাঁধার মধ্যে আষ্টেপৃষ্টে আছি সবাই। বিশ্ববাসী দেখেছে আমাদের নারীসমাজ কি করতে পারে।আমরা ৫২ কিংবা ৭১ না দেখলেও আমরা চব্বিশের অভ্যুত্থানে যে ভূমিকা রেখেছি তাতে আন্দোলন জোরালো হয়েছিলো।মেয়েরা তাদের ভাইদের আত্নরক্ষায় বুক পেতে দিয়েছিলাম। ফ্যাসিস্ট এর দোসররা মেয়েদেরকে পিছনে ফেলে আমাদের ভাইদের চিনিয়ে নেওয়ার দু:সাহস করতে পারেনি। অভ্যুত্থানের সময় আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের ভেদাভেদ দেখেনি কেউ। কিন্তু এর পরবর্তী সময়ে একটা অংশ মেয়েদের অস্বীকার করার তীব্র চেষ্টায় লিপ্ত ছিলো।একেকজনের অবদানকে খাটো করে দেখা সহ সকল ক্রেডিট এক তরফা নিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা তারা করেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু মেয়েরা সবসময় আন্ডাররেটেড থেকেও নিজেদের দায়িত্বের জায়গায় সচেতন ছিলো। আন্দোলনের পরেও নোয়াখালী তে যে ভয়াবহ বন্যা আমরা অতিক্রম করেছি তাতে নোয়াখালীর নারী নেতৃত্বের অবদান স্পষ্ট। তিনি আরো বলেন, চারদিকে এত ধর্ষণ, অবিচার সেইখানে আমরা একতাবদ্ধ।সাম্প্রতিক সময়ে যে ঘটনা ঢাবিতে ঘটেছে তাতে রাষ্ট্র যে মেয়েদের নিরাপত্তার ব্যাপারে কতটা উদাসীন তা স্পষ্ট। বিশেষ করে হেনস্তাকারী অর্নবের গলায় ঐ ফুলের মালা আর হাতে প্রবিত্র আল্লাহর কালাম এইটা সমগ্র বিবেকমান মানুষের গালে চপোটাঘাত ছাড়া কিছুই নয়। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন করেছি তবে যাদেরকে বৈষম্য দূর করার দায়িত্ব দিলাম তারাই যখন বৈষম্যের নজির স্থাপন করে তখন তাদের থেকে পাওয়া বৈষম্যের কথা আমরা কাকে বলবো?আমরা তিন বছরের চকলেট কিনতে যাওয়া শিশুটির নিরাপত্তা দিতে পারেনি,গতকাল মাগুরার ধর্ষিত বাচ্ছাটির মৃত্যুর লড়াইয়ের সাক্ষী হতে হলো বাস্তবিক এই দিবস এই মুহুর্তে উদযাপনের অবস্থায় নেই।তবুও এইটুকু বলবো প্রিয় বোনেরা সবাই একতাবদ্ধ থাকুন।হিজাবের অধিকার যেমন চাই তেমন রাস্তায় নির্বিঘ্নে চলাফেরার অধিকার ও চাই।আমাদের একতাবদ্ধ হতে হবে একটা কালো অংশের বিপক্ষে যারা অন্ধকারে ডুবে আছে।

নোয়াখালী সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগ ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসমিন নাহের নুহা বলেন, নারী হলো অন্যতম পরাশক্তি। সুস্থ নিরপেক্ষ সমাজ বিনির্মানে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমান তালে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আক্ষেপ নিয়ে জানান , নারী দিবস শুধু একদিন পালন করা উচিত না। নারীদের জন্য হোক প্রতিদিন। যেহেতু নারী দিবস বলে ওই একদিনই নারী দের সম্মান দেওয়া হয় তাহলে আমার মতে এই নারী দিবস প্রতিদিন হওয়া উচিত। যেন আমরা নারীরা একটু স্বাধীনভাবে চলতে পারি। আবার এই স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়। অন্তত ঘর থেকে এই ভেবে বের হইতে পারি যে আমি নিরাপদ আছি আমার পরিবারও যেন এই ভেবে আমাকে বাহিরে বের হতে দিতে পারে যে আমার মেয়ে যেখানেই যাচ্ছেনা কেন সে নিরাপদ আছে। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীরা যেনো দিন দিন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নারী দিবসে আমার একটাই চাওয়া সমাজে, রাষ্ট্রে নারীদের সুস্পষ্ট অবস্থান সমতার হোক, ঘরে এবং বাহিরে নিজেদের নিরাপদ মনে করুক।

নোয়াখালী সরকারি কলেজের বিবিএস ( ২০২১-২০২২) সেশনের শিক্ষার্থী সুমাইয়া বিনতে জিহাদী তার ভাবনা এবং প্রত্যাশা কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করেন, “জীবন যদি রংধনু হয়, তবে নারী হলো তার রঙের বাহার জীবনে যদি নেমে আসে আধার, নারী তুমি হয়ে ওঠো তার আশার আলো ” বর্তমান সময়ে নারীরা শিক্ষা ক্ষেত্র থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত পুরুষদের সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশ বিনির্মানে পুরুষদের সাথে সমান তালে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু তাও নারীরা নির্যাতন, বঞ্চনার স্বীকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ইসলাম এবং দেশের নীতিতে নারীদের সম্মানিত করা হয় কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র , আমরা নারীরা ঘর থেকে বের হয় ভয় নিয়ে। নারী পাচার, নারীকে ধর্ষণ এসব যেনো বেড়েই চলছে। নারীদের ধর্মীয়, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। নারী হয়ে যাচ্ছে লাঞ্চিত, অবহেলিত। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করছে কথা বলছে যা নারীদের জন্য একটা সম্ভাবনাময় দেশ গঠনে সাহায্য করবে বলে আমি মনে করি। এই সময় সুমাইয়া কাজী নজরুল ইসলামের ছড়া রচিত পঙক্তির মাধ্যমে নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, “বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর,অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।” ৮ ই মার্চ নারী দিবসের শুভেচ্ছা সকল নারীকে।

নোয়াখালী সরকারি কলেজ বি এস এস সি (২০২২-২০২৩) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার কাজী নজরুল ইসলামের একটি উক্তি দিয়ে নারী দিবসে তার ভাবনার এবং প্রত্যাশা তুলে ধরেন, ❝কোনো কালে একা হয়নিকো জয়ী পুরুষের তরবারি প্রেরনা দিয়েছে শক্তি দিয়াছে বিজয়ালক্ষী নারী❞ নারীরা মমতাময়ী আবার সেই নারী রুদ্ররূপ ধারণ করতে পারে যা কাজী নজরুল ইসলামের উক্তিতে প্রকাশ পায়। আমরা জেনারেশন জি অর্থাৎ জেন-জি তা ২০২৪ সালে স্বচক্ষে দেখেছি। একজন নারী কিভাবে ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে লড়াই করে। একজন নারী তার ভাইদের কাধে কাধ মিলিয়ে ফ্যাসিস্টের পতন ঘটিয়েছে। ভাইদের, সন্তানদের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো আমাদের সংগ্রামী নারীরা তবুও পৃথিবীর প্রতিটি দেশে প্রতিটি সমাজে নারী হচ্ছে নির্যাতিত, নিপীড়িত। তবে আনন্দের বিষয় হচ্ছে বর্তমানে নারীরা তাদের অধিকার এবং সমতা রক্ষার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতন। বর্তমানে নারীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে জানে। তিনি আরো বলেন, পৃথিবীতে জনসংখ্যা দিক দিয়ে প্রায় অধিকাংশ নারী। পুরুষ যেমন বাহিরে কাজ করে নারীরা বর্তমানে ঘরে বসে নেই। তারাও জীবিকা নির্বাহের জন্য পুরুষদের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। ৮ই মার্চ কে আন্তর্জাতিক নারী দিসব হিসেবে স্বীকৃতি দান করে নারী সমাজের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা তথা নারী সমাজের সম্প্রীতি সুদৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে জাতিসংঘের সহযোগিতার প্রতি বছর সারা বিশ্বে এ দিবস পালিত হয়ে থাকে। নারী দিবসে নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী বেগম রোকেয়ার কথা না বললেই নয়। তিনি আমাদের সমাজে নারী শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি নিরলস কাজ করে গেছেন। আজো আমাদের কাছে তিনি অনুপ্রেরণা।